রংপুর বিভাগে হাম রোগের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। শতাধিক শিশু নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দু্ইজন শিশু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত আরো ছয় শিশু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ১০ জন শিশু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। অন্যদিকে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে সকল শিশুকে টিকা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য শিশু ওয়ার্ডের পাশেই ছোট্ট একটি ঘরে ৬টি বেড স্থাপন করে আক্রান্ত শিশুদের গাদাগাদি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে এক শিশুকে মেঝেতে আর তিন শিশুকে ওয়ার্ডের বাইরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বজনদের দাবি হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে একটি আইসলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করার। হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে দু্ইজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১টায় সরেজমিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-জ্বর আর নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।
তবে আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, শিশুদের শ্বাস কষ্ট, প্রচণ্ড জ্বর-সর্দিসহ অন্যান্য উপসর্গ রয়েছে। এদিকে দুই শিশু ওয়ার্ডে তিলধারণের জায়গা না থাকায় এক একটি বেডে দুই থেকে তিনজন করে আক্রান্ত শিশুদের গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
নীলফামারীর জলঢাকা থেকে ৯ মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে নিয়ে আসা আজমেরী বেগম বলেন, “একটা বেডে দুই শিশুকে একসঙ্গে রাখলে মায়েদের দাঁড়িয়ে না হয় ফ্লোরে বসে থাকতে হচ্ছে।”
আইসেলেশন ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. খালিদ বলেন, “গত দুই বছর ধরে হামের টিকা দেওয়া হয়নি। তাছাড়াও আক্রান্ত হচ্ছে ১ বছর থেকে শুরু করে ৫ থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুরা। হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সবধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরাও বলছেন, সার্বক্ষণিক ডাক্তার-নার্স এখানে আসছেন রোগিদের দেখভাল করছেন, এমনকি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান নিজেও এসে চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এদিকে রংপুর নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় হাম রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পাড়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ বলেন, “এ পর্যন্ত ১৫ জন অসুস্থ শিশুর রক্ত পরীক্ষা করে সাতজন হামে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শিশুদের জ্বর-সর্দি আর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে এবং তাদের শরীরে র্যাস দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “হামে আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সব ধরনের ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।”



