দেশের প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমান বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত সকল স্তরের “মেধা” ও “সাধারণ” শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করা হবে। এতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক টাকার পরিমাণ ও এককালীন অনুদান আগের চেয়ে বাড়বে। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই হার পুনঃনির্ধারণের ফলে সরকারের বাৎসরিক ব্যয় ১৮৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৬৮ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়াবে। যা অর্থ বিভাগের বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পাশাপাশি বার্ষিক এককালীন অনুদানও দ্বিগুণ হচ্ছে। এসএসসিতে মেধাবৃত্তির বার্ষিক অনুদান ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৮০০ টাকা এবং এইচএসসিতে মেধাবৃত্তির ক্ষেত্রে ১,৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,৬০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, “বর্তমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মিল রেখে আমরা সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে সারা দেশে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার স্রোত ধারায় ধরে রাখতে আমরা এই সংখ্যা বাড়ানোরও চিন্তা-ভাবনা করছি।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. সাইদুর রহমান জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় বৃত্তির হার দ্বিগুণ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) একটি পূর্ণাঙ্গ ও সংশোধিত প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। অর্থ বিভাগের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।



