Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দাম না পাওয়ায় আলু ফেলে দিচ্ছেন কৃষকরা

বর্তমানে বাজারে পাইকারি পর্যায়ে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৯ টাকায়

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

আলু উৎপাদনের প্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রংপুরে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। ভরা মৌসুমে আলুর নজিরবিহীন মূল্যধস এবং বৈরী আবহাওয়ায় মজুতকৃত আলুতে পচন ধরায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। উপায় না পেয়ে অনেক কৃষক বস্তাভর্তি আলু রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন।

চাষিদের তথ্যমতে, এবার প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে পাইকারি পর্যায়ে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৯ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে কৃষকের লোকসান হচ্ছে ৬ থেকে ৮ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিমাগার ভাড়া ও পরিবহন খরচের বাড়তি চাপ। গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষক মিজানুর রহমান জানান, শুরুতে দাম না পেয়ে আলু ঘরে তুলে রাখলেও সংরক্ষণের অভাবে পচন ধরায় প্রায় ৫০ বস্তা আলু তাঁকে রাস্তায় ফেলে দিতে হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৬ লাখ ৫ হাজার ২৫ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমান বাজারদরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুধু মূল্যধসের কারণেই এ অঞ্চলে কৃষকদের লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৯৬৩ কোটি টাকা। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আলুর পচন এবং হিমাগার ভাড়ার চাপ হিসাব করলে এই ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলার কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ ও বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার ধারে স্তূপ করে রাখা পচা আলুর দুর্গন্ধে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। কৃষকরা জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি দাম কমেছে প্রায় ২০০ টাকা। বর্তমানে এক মণ আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকায়, যেখানে এক মণের উৎপাদন খরচই ছিল ৬০০-৬৫০ টাকা। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হিমাগারগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এবং বাজারে আলুর অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় তাঁরা নতুন করে আলু কিনতে সাহস পাচ্ছেন না।

পারভীন আক্তার নামে এক নারী চাষি জানান, লিজ নেওয়া জমিতে আলু আবাদের জন্য তিনি নিজের গরু বিক্রি ও সারের দোকান থেকে বাকি নিয়েছিলেন। কিন্তু বাজারে পাইকার না পাওয়া এবং বাড়িতে রাখা আলু পচে যাওয়ায় তিনি এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। অনেক কৃষক গত বছরের হিমাগার ভাড়া দিতে না পেরে এবার নতুন আলু সংরক্ষণের সাহস পাচ্ছেন না।

রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের এই মহাবিপদ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বিশেষ নজরদারি এবং কৃষকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুবা আলু চাষিরা বড় ধরনের ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

   

About

Popular Links

x