সোমবার (১১ এপ্রিল) প্রকাশিত এই রায়ে অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করাকে নারীর প্রতি বৈষম্য এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণে জানান যে, গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ করা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থি। এই প্রথা কন্যাশিশু হত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং এটি সরাসরি সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। এ ধরনের চর্চা সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলেও আদালত উল্লেখ করেন।
আদালত এই রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এই ডাটাবেজে অনাগত শিশুর সব ধরনের ডায়াগনস্টিক তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে অনাগত শিশুর সুরক্ষায় তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং লিঙ্গ নির্ধারণের মতো অবৈধ চর্চা বন্ধ করা সহজ হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করেছিলেন। রিটকারী আইনজীবী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে অনাগত শিশুর সুরক্ষা এবং নারীর প্রতি সামাজিক বৈষম্য হ্রাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রায়ের ফলে এখন থেকে গর্ভকালীন আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্য কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় হিসেবে বিবেচিত হবে।



