আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো (নবম পে-স্কেল) বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। কীভাবে সবচেয়ে উত্তম উপায়ে এটি কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে নতুন পে-স্কেল এককালীন না দিয়ে তিন ধাপে বাস্তবায়নের এই পরিকল্পনার তথ্য সামনে আসায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই সময়সূচি নিশ্চিত করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন পে-স্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে তাঁর নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন।
খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি হবে নিম্নরূপ:
প্রথম ধাপ (২০২৬-২৭ অর্থবছর): আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোর অধীন বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপ (২০২৭-২৮ অর্থবছর): মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কর্মচারীদের দেওয়া হবে।
তৃতীয় ধাপ (২০২৮-২৯ অর্থবছর): মূল বেতনের সাথে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল চালু হবে।
সরকারের এই ধাপে ধাপে পে-স্কেল দেওয়ার সিদ্ধান্তের খবরটি চাউর হওয়ার পর থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
কর্মচারীদের একটি বড় অংশের মতে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে একবারে পূর্ণাঙ্গ স্কেল না দিয়ে তিন বছরে ধাপে ধাপে দিলে তার সুফল সাধারণ কর্মচারীরা পাবেন না। বিশেষ করে শেষ ধাপে ভাতা যুক্ত করার সিদ্ধান্তের কারণে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা আবাসন ও চিকিৎসা ভাতার সুবিধা থেকে দীর্ঘ সময় বঞ্চিত থাকবেন। তবে কর্মকর্তাদের আরেকটি অংশ মনে করছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এবং রাজস্ব সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করলে সরকারের এই ধাপে ধাপে পে-স্কেল দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবসম্মত।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কর্মচারীদের সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এবং বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে কীভাবে এটি চূড়ান্ত করা যায়, তা নিয়ে অর্থ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।



