নিজেকে সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও আদালতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন মো. অপু নামে এক ব্যক্তি। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতেই ধরা পড়ে যায় তার ‘মেজর জেনারেল’ পরিচয়ে প্রতারণা।
৩৩ বছর বয়সী অপু পেশায় একজন গাড়িচালক। কিন্তু বিভিন্ন সময় তিনি নিজেকে ‘মেজর জেনারেল মো. মোরশেদ’ পরিচয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন দিতেন। কখনও মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে, কখনও বা আসামিদের রিমান্ডে নিতে, আবার কখনও জামিনের তথ্য জানাতে পুলিশকে চাপ দিতেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন অপু। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তসূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় করা নিজের একটি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও জামিনসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি নিয়মিত পুলিশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগে ফোন করতেন।
তবে গত ১১ মে ঘটনা অন্য মোড় নেয়, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অপুর আচরণে যখন সন্দেহ প্রকাশ করেন বিচারক। পরে তার মুঠোফোন তল্লাশি করে ‘মেজর জেনারেল মো. মোরশেদ’ নামে একটি সক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়।
পরে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার বাদী হন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেন জানান, অপু তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ আইডি পরিচালনা করেন। এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে অপু তার প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেন। এমনকি অপহরণ ও মুক্তিপণের অভিযোগে করা একটি মামলাও পুলিশের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। শুরুতে মামলা নিতে অনীহা থাকলেও পরে ‘মেজর জেনারেল’ পরিচয়ে বারবার ফোন আসার পর তা গ্রহণ করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদেশ পাঠানোর কথা বলে কয়েকজন গার্মেন্টস শ্রমিকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে অপুর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার জের ধরেই পরে মামলাগুলো করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এডিসি নাসির আহম্মেদ বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপে সেনা কর্মকর্তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কখনও সরাসরি ‘মেজর জেনারেল’, আবার কখনও তার গাড়িচালক পরিচয়ে ফোন করা হয়।
ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।



