বগুড়ার আদমদীঘিতে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছিল সাত বছরের এক শিশু। রাতে প্রতিবেশির বাড়িতে তার বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার সাহেববাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে রিকশাচালক আমজাদ হোসেন তার স্ত্রী বন্যা খাতুনকে আটক করে মারধর করে। তারা তাদের বাড়ি ও পুলিশের গাড়ির কাঁচও ভাংচুর করে। পরে পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের পাশের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিতেই ওই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঘরের ভেতরে বস্তায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। শিশুর মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানায়, ভুক্তভোগী শিশু বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বাসিন্দা ছিল। তার বাবা মোটর মেকানিক হিসেবে কাজ করেন। ওই শিশু স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যাওয়ায় তার ফুফুর কাছে থাকতো।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ওই শিশু বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যায়। এ সময় তার কানে দেড় আনা ওজনের স্বর্ণের দুল ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সে পড়তে যায়নি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান পাননি। খবর পেয়ে তার বাবা বাড়িতে এসে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। রাত ১০টার দিকে তিনি আদমদীঘি থানায় জিডি করতে যান।
এদিকে প্রতিবেশি মাদকাসক্ত আমজাদ হোসেন হঠাৎ করে প্রচুর বাজার ও স্ত্রী বন্যার জন্য নতুন কাপড় কিনে আনেন। এতে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। তারা আমজাদ হোসেনের বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি করে ঘরের মুরগির খাচার পাশে একটি বস্তা দেখতে পায়। বস্তার মুখে থাকা কাপড় সরালে ভেতরে শিশুর হাত-পা মোড়ানো মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। এ সময় এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তারা আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা খাতুনকে আটক করে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে। এছাড়া তাদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আসিফ হোসেন, আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া ও সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা অনেক কষ্টে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে আমজাদ-বন্যা দম্পতিকে উদ্ধার করেন। এ সময় জনগণ সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল ভ্যানের সামনে কাঁচ ভাঙচুর করে।
বুহস্পতিবার রাত পৌনে ১টার দিকে পুলিশ নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া আহত আমজাদ ও তার স্ত্রী বন্যাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ প্রহরায় পাশের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের দুই শিশু সন্তানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া জানান, নিহত শিশুর কানে থাকা স্বর্ণের দুল পাওয়া যায়নি। ধারনা করা হচ্ছে, এ দুল ছিনিয়ে নিতেই আমজাদ দম্পতি শিশুকে রাস্তা থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করতে হাত-পা মুচড়ে বস্তায় রাখা হয়।



