Friday, June 12, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে যাওয়া ১৯ সাংসদের পরিচয় প্রকাশ

তারা এনডিএর সঙ্গে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হয়েছে। দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে অন্তত ১৯ জন তৃণমূল সাংসদ শাসক জোট এনডিএর সঙ্গে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের হাতে আসা একটি চিঠিতে ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ এবং ইউসুফ পাঠানের মতো পরিচিত মুখ। তৃণমূলের একাধিক সূত্রের দাবি, খুব শিগগিরই আরও একজন প্রভাবশালী নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে পারেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আলাদা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং এনডিএর সঙ্গে থাকার আগ্রহ জানান। এর দুই দিন পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে আরেকটি চিঠি পাঠিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবর্তে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের প্রধান হুইপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

এর আগে কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্বীকার করেছিলেন যে দলের একাংশ সাংসদ দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও তিনি কোনো নাম প্রকাশ করেননি, তবে সংসদে আলাদা বসার ব্যবস্থা চাওয়া এবং বিজেপিকে সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।

এদিকে ইতোমধ্যে তিনজন সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ বারাইক। এর আগে ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুশ্মিতা দেব এবং ৮ জুন পদ ছাড়েন সুখেন্দু রায়। তবে তারা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে কমপক্ষে ১৯ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাদের কাছে সেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাটি রয়েছে।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সাংসদ কীর্তি আজাদ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিজেপির চাপ ও প্রলোভনের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, কয়েকজন সাংসদকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চিঠিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’-এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা দল ছাড়তে চান তারা যেতে পারেন, তবে তারা কখনোই প্রকৃত তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষের অন্যতম কারণ হচ্ছে নেতৃত্বের ধরন, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া।

চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায় অভিযোগ করেন, দলের সাধারণ নেতাদের মতামতের মূল্যায়ন করা হতো না এবং কেবল নির্বাচিত কয়েকজনেরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যাওয়ার সুযোগ ছিল।

এদিকে প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, অভিষেকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ দলের ক্ষতির কারণ হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, অভিষেককে ছাড়া দল চলবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যথায় দলে থাকা তার পক্ষে সম্ভব হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন।

   

About

Popular Links

x