বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় “বন্ধুত্ব হোক সহযোগিতার বন্ধনে” এই স্লোগানে হয়ে গেলো এসএসসি ও দাখিল ২০০১ ব্যাচের রজতজয়ন্তী ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।
শনিবার (৩০ মে) বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ব্যতিক্রমী আয়োজনটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর এক ছাদের নিচে মিলিত হয়ে শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন উপজেলাটির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০০১ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
সকাল থেকেই বিদ্যালয়টির প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন তারা । একই রঙের টি-শার্ট পরিহিত বন্ধুদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল। তার উপস্থিতি এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিক সময় কাটানো অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন ব্যাচের আবিদ হাসান সাব্বির, মো. মামুন হোসেন ও সাইফুল ইসলাম শাওন, জহিরুল ইসলাম জুয়েল, নুর-ই-আলম সোহাগ, মাহমুদুল হক রনি, মাসুম রেজা রুবেলসহ তাদের নেতৃত্বে এবং অন্যান্য বন্ধুদের সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী এই পুনর্মিলনীতে অংশ নেন।
আয়োজনে ছিল দোয়া মিলাদ, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফটোসেশন, আড্ডা, প্রীতিভোজ এবং আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র।
রেজিস্ট্রেশনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর বন্ধুদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। কেউ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ রাজনীতিবিদ, কেউবা বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। তবে পরিচয়, পদমর্যাদা ও পেশাগত অবস্থান ভুলে সবাই যেন ফিরে গিয়েছিলেন শিক্ষাজীবনের সেই সোনালি দিনে।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, ব্যস্ত জীবন ও কর্মজীবনের নানা চাপের মধ্যেও এই পুনর্মিলনী তাদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
উপজেলাব্যাপী ২০০১ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এবারই প্রথম এমন বৃহৎ পরিসরে পুনর্মিলনী আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এই বন্ধনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিয়মিত মিলনমেলা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।



