Friday, June 19, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অবৈধভাবে পরিবর্তন করলে ৫ বছর কারাদণ্ড

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১১:০১ এএম

পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অবৈধভাবে পরিবর্তন বা জালিয়াতি করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রেখে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

একইসঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিস্তার রোধেও আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনটি ডিজিটাল যুগের অপরাধ দমনে অপর্যাপ্ত হওয়ায় ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্স - সংশোধন) অ্যাক্ট’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস, নকল, জাল সনদ তৈরি বা ফলাফল পরিবর্তন করলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

প্রস্তাবিত ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ :

(ক) পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ শিরোনামে নতুন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

(খ) ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

(গ) পাবলিক পরীক্ষায় সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং জরিমানার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বৈঠকে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে এটিকে কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কলা, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ বেড়ে চলায় ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ সংশোধন করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ডিজিটাল সম্পদ, অনলাইন বাজি ও স্পট ফিক্সিংয়ের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণসহ অপরাধের ধরন অনুযায়ী কঠোর সাজা ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ :

(ক) বিচারিক কার্যক্রম জোরদার করণে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

(খ) মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার রোধে বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ দমনে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণের নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

(গ) সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধ, অভিযান পরিচালনা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

(ঘ) মাদকদ্রব্য সহজেই শনাক্তকরণে ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা কর্তৃক ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

   

About

Popular Links

x