গত ১৭ বছর তার মায়ের ওপর হওয়া অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও, দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তার মা তাকে দেশের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করার পরামর্শ দিতেন।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন বক্তব্যের পর নিজের পরিবার ও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমি যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, গেল ১৭ বছর আপনার ওপর যে অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে, আমি কি সেই নির্যাতনের প্রতিশোধ নেব? সেই ক্ষমতা আমার আছে। তবে আমার বিশ্বাস, আমার মা আমাকে বলতেন, প্রতিশোধ নয়, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাও। আমার ছোট ভাইকেও একই প্রশ্ন করলে সে-ও মায়ের মতোই একই উত্তর দিতো।”
দেশে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যেকের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে, তবে তার মানে এই নয় যে কাউকে বঞ্চিত করে তা করা হবে।” সবাইকে সাথে নিয়েই দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এই স্মরণ সভায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকের আবেগঘন বক্তব্য অনুষ্ঠানস্থলে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।



