Sunday, July 12, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পানিতে নিচে কবরস্থান, ভেলায় করে লাশ নিয়ে দাফন

বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার ভেলায় করে মরদেহ শুকনো স্থানে নেওয়া হয়

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যার কারণে পারিবারিক কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এক ব্যক্তির মরদেহ ভেলায় করে নিয়ে গিয়ে দূরে দাফন করতে হয়েছে। বন্যার কারণে নিজ বাড়িতে গোসল করানো কিংবা পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সুযোগ না থাকায় পরিবারের সদস্যরা বিকল্প স্থানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে তিনি মারা যান। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে। মারা যাওয়া ব্যক্তি মোহাম্মদ ফোরকান (৬০)। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। পরে রাত ১০টার দিকে দস্তিদারহাট এলাকার ফকির মুড়া ঈদগাহ সংলগ্ন পাহাড়ের খাস জমিতে তাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় ফোরকানের বসতঘর, উঠান এবং পারিবারিক কবরস্থানসহ পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। শুক্রবার সকালে বন্যার পানিতে মাছ ধরার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার ভেলায় করে মরদেহ শুকনো স্থানে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে দস্তিদারহাটে নিয়ে গিয়ে গোসল ও দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। পরে জানাজা শেষে তাকে পাহাড়ের একটি সরকারি খাস জমিতে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।

ফোরকানের ছেলে রাসেল উদ্দিন বলেন, ‌‌‘‘পরিবারের সবার কবর বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে। তার বাবারও ইচ্ছা ছিল সেখানেই দাফন হওয়ার। কিন্তু কবরস্থানে কোমরসমান পানি থাকায় সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।’’

জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন বলেন, ‘‘এখনো ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে রয়েছে। বসতবাড়ি, কবরস্থান ও চলাচলের পথ প্লাবিত থাকায় মরদেহ ভেলায় করে শুকনো স্থানে নিতে হয়েছে।’’

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘‘মাছ ধরতে গিয়ে ওই ব্যক্তি স্ট্রোক করেন বলে জানা গেছে। পরে বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।’’ তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে দাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা যেত।

এদিকে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন এখনো কমবেশি প্লাবিত রয়েছে এবং প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানান, সাঙ্গু নদীর সাতকানিয়া অংশে পানি এখনো বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাগরে উচ্চ জোয়ার এবং পাহাড়ে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে পানি দ্রুত নামছে না।

   

About

Popular Links

x