ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে গত ছয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।
রবিবার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দুটি পৃথক পোস্টে এ তথ্য জানান আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ইউনিয়নের দুই হাজার বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের বন্যাপ্লাবিত আট উপজেলার মোট ছয় হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
আরেক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ ঘোষণা দেন, এবারের বন্যায় গৃহহারা ৩০০ পরিবারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিনের নতুন ঘর নির্মাণ করে দেবে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।
এদিকে বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য বিভাগজুড়ে ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, শিশুখাদ্য, ডায়াপার এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্র্যাক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, গ্রাউস, সোনেসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও বন্যার্তদের সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রশাসনের তথ্যমতে, টানা বর্ষণ ও বন্যার পানিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২৪২ কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক হয়নি।



