রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকরা সাধারণ সভা করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি তুলেছিলেন। সেই প্রস্তাব না মানায় তারা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে সব রুটেরই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন করতে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন উপলক্ষে সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনে মালিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম প্রস্তাব করায় প্রতিবাদ জানান শ্রমিকরা। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ওই সভা প্রত্যাখ্যান করে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় শ্রমিক পক্ষ।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন আয়োজন করতে সোমবার বিকেলে নিজের কার্যালয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বসেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম। ওই সভায় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালও ছিলেন। শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখি তার অনুসারী। তাদের বিরোধী শ্রমিক নেতারা ডিসিকে পরামর্শ দেন, সংগঠনের সাধারণ সভা করে যেন নির্বাচনি বোর্ড গঠন করা হয়।
কিন্তু ডিসি জানান, এখন সাধারণ সভা করা সম্ভব নয়। নজরুল ইসলাম হেলালসহ পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে তিনি একটি নির্বাচনি কমিটি গঠন করে দিচ্ছেন। তারা নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।
হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিক নেতারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। একপর্যায়ে দুইপক্ষের শ্রমিক নেতাদের কথা কাটাকাটি হয়। তখন হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিকরা ডিসির সামনেই বাস বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলে চলে আসেন। এরপর রাত থেকে বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শ্রমিক নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, “ডিসি স্যার একটা পক্ষ নিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা সাধারণ সভা করে নির্বাচনি কমিটি করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি দু’একজনের কথা শুনেই নজরুল ইসলাম হেলালকে রেখে কমিটি করে দিতে চাইলেন। তিনি থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই শ্রমিকরা বাস বন্ধ করে দিয়েছে।”
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিকদের একটা অংশ সাধারণ সভা করে নির্বাচনি কমিটি গঠন করতে চান। কিন্তু এখন তো সেটা সম্ভব না। এ জন্য তারা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায় সেটা আমরা দেখছি।”



