রাজধানীর বাজারে গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও চলতি সপ্তাহে নতুন করে বেড়েছে মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে মাছের বাজারে। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছের দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে বাজারে হাজার টাকার নিচে প্রায় কোনো সামুদ্রিক মাছ মিলছে না।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের দামও ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে জীবিত পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুকুরে চাষ করা রুই, কাতলা, মৃগেল ও পোয়া মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
রাজধানীর বাজারগুলোতে মানভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। তবে বড় আকারের রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের এক মাছ বিক্রেতা জানান, বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেলেও দাম বেশ চড়া। মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, সাদা রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, লাল কোরাল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সামুদ্রিক সুরমা ৭০০ টাকা এবং টুনা মাছ ৮৫০ থেকে ১ হাজার টাকায়। বাজার ও মাছের আকারভেদে এসব দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলেও জানান তিনি।
মাছের পাশাপাশি বেড়েছে ডিমের দামও। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়।
অন্যদিকে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।



