Friday, July 31, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, স্বজনদের ওপর হামলা

সিস্টের অস্ত্রোপচারে ওই রোগীর খাদ্যনালী কেটে গেছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

জামালপুরে বেসরকারি এম. এ রশীদ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় জেরিন (২৫) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার অভিযোগ করতে গেলে হাসপাতালের স্টাফদের হামলার শিকার হন মৃতের স্বজনরা। 

অন্যদিকে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের উপরও হামলা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে শহরের সরদারপাড়া এলাকায় এম. এ রশিদ হাসপাতালে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মৃত জেরিনের স্বামী দেলোয়ার হোসেন (৩৫) জানান, গত ৯ জুলাই তার স্ত্রীর পেটে সিস্টের ব্যথা নিয়ে জামালপুরের এম. এ রশীদ হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দিলে ডা: হারুন অর রশিদের তত্ত্বাবধানে সিস্টের অপারেশন হয়। 

অপারেশনের পর প্রথম দিন রোগী স্বাভাবিক থাকলেও দ্বিতীয় দিন থেকে পেট ফুলে যেতে থাকে। স্ত্রী জেরিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা সাতদিন রোগীকে রেখে দেয়।

এরপর রোগীর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে গত ১৬ জুলাই ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারে অপারেশনের সময় তার স্ত্রী জেরিনের খাদ্যনালী কেটে ফেলায় খাবার লিক হয়ে পেটে মারাত্মকভাবে ইনফেকশন হয়েছে। ইউনাইটেড হাসপাতালেও আরেকটি অপারেশন করলেও রোগীর অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। সেখানেও ছয়দিন রাখার পরে গত ২৩ জুলাই আমাদেরকে জানানো হয় রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ইউনাইটেড এবং এম. এ রশীদ হাসপাতাল একই মালিকানাধীন হওয়ায় তারা তাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সে তা গ্রহণ করেনি।  

তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে দাফন করে শুক্রবার (৩১ জুলাই)  দুপুরে এম. এ রশীদ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে আসলে হাসপাতালের স্টাফরা তাকে ও তাদের স্বজনদের উপর হামলা করে।

এ সময় ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয় এবং হামলা করে হাসপাতালের স্টাফেরা।

হামলার শিকার সাংবাদিক খন্দকার রাজু আহমেদ ফুয়াদ বলেন, “এম. এ রশিদ হাসপাতালে রোগী মৃতুর ঘটনায় স্বজনরা হাসপাতালে গেলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে বেশ কয়েকজন সংবাদমাধ্যমকর্মী সেখানে যাই। আমরা মৃত রোগীর স্বজনদের বক্তব্য নেওয়ার সময় হাসপাতালের স্টাফরা আমাদের উপর হামলা করে। পরে সংবাদমাধ্যমকর্মীরা হামালার বিষয়ে জানতে চাইলে স্টাফরা আবার আমাদের উপর হামলা করে।”     

এ বিষয়ে এম. এ রশীদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বক্তব্য দেয়ার কথা বলে সাংবাদিকদের বসিয়ে রাখে। দীর্ঘ সময় সাংবাদিকদের বসিয়ে রেখে পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন বক্তব্য না দিয়ে গা-ঢাকা দেয়।

   

About

Popular Links

x