Tuesday, October 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্বব্যাংক: বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ৩.৪%

অক্টোবর মাসে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনের তথ্য

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৪%। কারণ হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগ ও রপ্তানি কমে যাওয়া, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় দেশে দারিদ্র্য এবং আয়বৈষম্য দুই-ই বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এর অক্টোবর ২০২৬ সংস্করণে এক প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির এই সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিনিয়োগ কমেছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, বেড়েছে ব্যবসার খরচ। তবে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ উন্নত হওয়ায় বাহ্যিক খাত স্থিতিশীল ছিল। জ্বালানি সরবরাহ ধীরে ধীরে সহজ হলে এবং সংস্কার গতি পেলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩.৯% হতে পারে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, টানা চতুর্থ বছরের মতো দেশে জাতীয় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২২.৫% হয়েছে। গত এক বছরে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে নতুন প্রায় ২১ লাখ মানুষ। কর্মসংস্থান থমকে গেছে, নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০.৬% থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩.২% হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপির ৮.৩% রাজস্ব আহরণ বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর একটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি আগের অর্থবছরের ৩.৫% থেকে বেড়ে ৩.৯ % হয়েছে। গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৭% হলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উঁচুতে অবস্থান করছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে অবিলম্বে সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

ব্যাংক খাত: দ্রুত সম্পদের মান পর্যালোচনা শেষ করা, দুর্বল ব্যাংক নির্ধারণ করে ব্যাংকের মালিকদের লোকসানের দায় বহন নিশ্চিত করা এবং পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রক ছাড় তুলে নেওয়া।

জ্বালানি খাত: দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও এলএনজি অবকাঠামো জোরদার করা এবং বিদ্যুৎ কেনায় স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বজায় রাখা।

রাজস্ব খাত: করনীতি ও কর প্রশাসনকে পৃথক করা, কর ফাঁকি রোধ করা এবং ঢালাও করছাড় কমিয়ে আনা।

   

About

Popular Links

x