Friday, October 30, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর সময় পেলো বাংলাদেশ

বাংলাদশের পাশাপাশি নেপালের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ 

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ এএম

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিতে বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এলডিসি-সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকাভুক্ত হওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালকেও এই সুযোগ দিয়ে নিউ ইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক প্লেনারি মিটিংয়ে এ প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। 

সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ আরও সময় চেয়েছিল। ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিন পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এ বিষয়ে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) কাছে চিঠি পাঠায়।

জাতিসংঘ বলেছে, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ। এসব কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন সংকটের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং দেশের অভ্যন্তরীণ দীর্ঘদিনের দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছর দেওয়া হয়েছে।

ইউএনসিডিপির বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী, সাধারণত কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ানোর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধরন জটিল ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বাইরের সংকটের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দেয় এবং সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং মসৃণ উত্তরণবিষয়ক জাতীয় কৌশল বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী এবং বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিবছর ইউএনসিডিপির কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের চিঠি পাওয়ার পর ইউএনসিডিপির ২৮তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়। পরে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি সাধারণ পরিষদে আলোচনার সুপারিশ করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, “বাংলাদেশের আবেদনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এতে জি-৭৭ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সমর্থন দিয়েছে।”

রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় থাকবে

এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে তাৎক্ষণিকভাবে গড়ে ১২.৫০% শুল্ক আরোপের আশঙ্কা আপাতত থাকছে না। ব্যবসায়ীরাও উত্তরণের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বড় রপ্তানি বাজারগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

বর্তমানে ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্যিক জোটে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের মোট রপ্তানির ৭৩% এলডিসিভিত্তিক বিশেষ বাণিজ্যসুবিধার আওতায় রয়েছে।

মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচক (এইচএআই) এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচক (ইভিআই) - এলডিসি উত্তরণের তিনটি শর্তই পূরণ করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৮ সাল থেকে অনুষ্ঠিত দুই দফা ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় দেশটি সব কটি মানদণ্ড পূরণ করে। চলতি বছরই এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে করোনার কারণে এর আগে দুই বছর অতিরিক্ত সময় পেয়েছিল দেশটি।

২০২৪ সালের পর্যালোচনায় মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় বা জিএনআইয়ের ক্ষেত্রে উত্তরণের নির্ধারিত সীমা ছিল ১,৩০৭ ডলার। বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২,৬৮৪ ডলার। মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে নির্ধারিত সীমা ৫৯.৬ হলেও বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৭.৫। আর অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকে সীমা ছিল ৪০.৬; বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২১.৯।

তবে মানদণ্ড পূরণ করলেও এলডিসি থেকে উত্তরণের পরের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম স্বল্পোন্নত দেশ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে কয়েক দশকের উন্নয়ন অগ্রগতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হচ্ছে।

আগের মূল্যায়নেও তিনটি মানদণ্ড পূরণ

২০২১ সালের ২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউএনসিডিপির দ্বিতীয় ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো দেশটি তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছিল।

জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করতে হলে তিনটি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত দুটি পূরণ করতে হয়। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যারা তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে। তবে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের পর পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় সেই যোগ্যতা ধরে রাখতে হয়।

২০১৯ সালের পর্যালোচনায় বাংলাদেশের মাথাপিছু জিএনআই ছিল ১,৮২৭ ডলার, যেখানে নির্ধারিত সীমা ছিল ১,২২২ ডলার। মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৫.৩, আর নির্ধারিত সীমা ছিল ৬৬। অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৭.৩, যেখানে উত্তরণের জন্য সীমা ছিল ৩২।

   

About

Popular Links

x