Tuesday, August 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন যুবদল নেতা

সোমবার দুপুর ১২ টায় ধনুয়া নিজ বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করে তিনি এ ঘোষণা দেন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:২২ এএম

বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদলের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড যুব দলের সাবেক যুগ্ন সম্পাদক মাহাবুব আলম (৪০)। দুধ দিয়ে গোসল করে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তার দুধ দিয়ে গোসল করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

সোমবার ( ৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় ধনুয়া দক্ষিণপাড়ায় নিজ বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মাহাবুব আলম গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া দক্ষিনপাড়া গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি তিনি ২০০৬ সাল থেকে বিএনপি তথা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ওই বছরেই বাড়িতে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে দাওয়াত দিয়ে তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। নিজের দুই সন্তান, স্ত্রী মা এবং বাবার সিদ্ধান্ত মতে ব্যক্তিগত কারণে দলের সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

রাজনীতি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহাবুব আলম বলেন, “আমার পরিবারের সকলের মতানুযায়ী বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবো না। ২০০৬ সালে আমি বিএনপি তে আসি। ২০১৩ সালে যুবদলের কমিটিতে ৫নং ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হই। আমি রাজনীতি করে দুর্দিনে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

“শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় কিতাব আলী প্লাজায় আমার একটি জুতার দোকান ছিল। সেই দোকান ধরে রাখতে পারিনি রাজনীতি করার কারণে। আজকের পর থেকে কোন ধরনের রাজনীতির সঙ্গে আমি জড়াবো না। বিগত দিনের রাজনৈতিক পাওয়ার বা চলাফেরার মাধ্যমে কারো মনে কোনো প্রকার কষ্ট দিয়ে থাকি বা আমার কোন আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে ভাই, বন্ধু অথবা ছেলে হিসেবে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমি অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো আপনাদের সাথে চলাফেরা করবো। মা, বাবা এবং পরিবারকে নিয়ে সবার সাথে মিলেমিশে সুখে শান্তিতে থাকতে পারি সে কারণে আমি আর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবো না।”

একটি মামলায় ৫২ দিন কারাগারে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার মা, বাবা এবং পরিবারের লোকজন অনেক কষ্ট করে টাকা পয়সা দিয়ে আমাকে জেল থেকে জামিনে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। জেল থেকে বের হওয়ার পর মামলার ঘটনা নিয়ে আমিও একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম যেন ছোট্ট ঘটনাটি উঠে আসে। সেই কারণে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি আমাকে কারণ দর্শানো নোটিশ ইস্যু করে। আমি শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খাইরুল কবির মন্ডল আজাদ ভাইয়ের কাছে সেই কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেই। কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেওয়ার এক মাস পর আবার আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আমার কোনো কার্যক্রমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এ কারণে হয়তো আমাকে বহিষ্কার করেছে, এতে হয়তো দলের ভালো হয়েছে। তাতে আমার কোন দুঃখ নাই।”

তিনি আরো বলেন, “আমার নামে অনেক অপবাদ দেওয়া হয়েছে। এখন আমি যদি দলে না থাকি এবং দলের কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করি তাহলে আমার নামে আর বদনাম হবে না। সেই কারণেই আমি আর দলের কার্যক্রমে যুক্ত থাকবো না এবং কোন রাজনীতি করবো না। যুবদলের জন্য যতটুকু ভালো করার আমি মন থেকে দলকে ততটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আজকে গোসল করে আমার মায়ের উপস্থিতিতে বিএনপি যুবদল তথা রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমি আর বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হবো না এবং যুক্ত থাকবো না। আজ থেকে আমি অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করব এবং আমার পরিবারকে নিয়ে সুন্দরভাবে চলবো। নিজেকে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। আজ থেকে আমি শুধু একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সকলের সঙ্গে মিলে শান্তিতে বাঁচতে চাই।”

   

About

Popular Links

x