Wednesday, August 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উজানের ঢল-বৃষ্টিতে ১২ জেলায় বন্যার শঙ্কা, বিপৎসীমার কাছাকাছি একাধিক নদী

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এফএফডব্লিউসি এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

উজানের ভারী বৃষ্টি ও টানা বর্ষণের প্রভাবে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলের অন্তত ১২ জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

বুধবার (৫ আগষ্ট) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ সময়ে দেশের কয়েকটি প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা অববাহিকার লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। উজানের ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের চরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় পানি প্রবেশ করতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১৩ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে দিনের শুরুতে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরে ধীরে ধীরে কমে আসে। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

এদিকে ভারতের মেঘালয় ও আসামে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেট বিভাগের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও বাড়ছে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল, হাওর এলাকা এবং নদীতীরবর্তী বসতিতে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে সোমেশ্বরী, ভোগাই-কংস ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে পূর্বাভাস কেন্দ্র। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে ভারতের উজানেও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আপাতত এটি স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস। বৃষ্টিপাত কমে গেলে অধিকাংশ নদীর পানি ধীরে ধীরে নেমে আসতে পারে। তবে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

   

About

Popular Links

x