নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও কয়েক বছর ধরে পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বসবাস করছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে রিপন মিয়া ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। সে সময় সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই সুযোগে রিপন জোর করে তাকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে কিশোরীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, রিপন আগে থেকেই কিশোরীকে ভিডিওতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারটি প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সালিশে রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চান। সেখানে তাকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে না পারলে নিজের বাড়ি ভুক্তভোগীর নামে লিখে দেওয়ার কথাও বলা হয়। একই সঙ্গে তাকে এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সালিশের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই রিপন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীর বাড়ি ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে। পরে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগীর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েছিল। পরে পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সালিশে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত হলেও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।”
অন্যদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার জানান, ঘটনার বিস্তারিত তিনি জানেন না। তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, পেশায় রাজমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান। “হাই আই এম রিপন ভিডিও” ও “আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব” সংলাপের ভিডিওর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া তার ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।



