নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার দুলাভাই আবু হানিফকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হানিফকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর করা ধর্ষণ মামলায় গতকাল বুধবার আবু হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ মামলা রেকর্ডভুক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবু হানিফ ভুক্তভোগীর চাচাতো বোনের স্বামী। পরিচয়ের সূত্রে তিনি ওই তরুণীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় নয় মাস আগে তারা সিলেটে ঘুরতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে একটি ভাড়া বাসায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করেন হানিফ। পরে তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে হানিফ সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। কিছুদিন পর তরুণী নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থেকে হানিফ তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন বলে অভিযোগ।
তরুণীর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য হানিফ একাধিকবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তরুণী রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে হানিফের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হানিফ বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার থানায় হানিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন ওই তরুণী। পরদিন বুধবার নিজ বাড়ি থেকে হানিফকে আটক করে পুলিশ।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “তরুণীর করা ধর্ষণ মামলায় হানিফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ ঘটনার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“



