জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ফেসবুকে “অবমাননাকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত” মন্তব্য করার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম শরাফত শারিক রোহান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে শরাফতের দুটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে আবাসিক হল থেকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের পর বুধবার তাকে আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে শরাফত কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ফেসবুক পোস্টগুলো জুলাই আন্দোলনকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়নি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি ‘অনুপযুক্ত শব্দ’ ব্যবহার করেছেন বলেও জানান।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী শরাফতকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ‘অবমাননাকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য’ এবং নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় একটি মামলাও করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল হালিমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানস ভদ্র, শরাফতকে ঢাকার একটি আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, “আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষার্থী কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন।”



