কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মিয়া (১১)। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে লাফিয়ে খালে গোসল করতে নেমে হঠাৎ বৈদ্যুতিক সংযোগ চালু হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে, এরপর তলিয়ে যায় পানিতে।
মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বধূনগর গ্রামের একটি খালে ঘটে এই ঘটনা। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিস তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আব্দুল্লাহ বধূনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, দুপুর দুইটার দিকে আব্দুল্লাহসহ চার সহপাঠী বাড়ির পাশের বধূনগর খালে গোসল করতে যায়। তারা খালের পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে লাফিয়ে পানিতে নামছিল। সে সময় খুঁটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না বলেই জানত তারা। কিন্তু হঠাৎ সংযোগ চালু হয়ে গেলে আব্দুল্লাহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে যায়। বাকি তিনজনও শকের অনুভূতি পেলেও তারা তলিয়ে যায়নি, তবে আব্দুল্লাহকে আর বাঁচানো যায়নি।
আব্দুল্লাহর আত্মীয় মাসুম মিয়া জানান, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা সেখানে মেরামতের কাজ করছিলেন, যে কারণে সাময়িকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। মেরামত শেষে হঠাৎ সংযোগ চালু করে দেওয়ার সময়ই ঘটে এই বিপত্তি।
তিনি আরও জানান, পরিবারের ছোট ছেলে ছিল আব্দুল্লাহ। তার বাবা ও বড় ভাই সৌদি আরবে প্রবাসী, দেশে আছেন তার বড় বোন।
নিহতের বোনজামাই রাজু মিয়া অভিযোগ তুলেছেন, বিদ্যুৎ বিভাগের অসতর্কতার কারণেই ঘটেছে এই মৃত্যু। মেরামতকাজ শেষে যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই কীভাবে সংযোগ পুনরায় চালু করা হলো, তা তদন্তের দাবি জানান তিনি।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।



