Thursday, August 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যার দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জনের যাবজ্জীবন

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক দশ বছর ধরে চলা মামলার রায় ঘোষণা করেন

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

জামালপুরে আলোচিত চাচা-ভাতিজা জোড়া হত্যা মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একইসঙ্গে অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার দশ বছর পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষ।

রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার সাখাওয়াত (৩২), মো. সোহেল (৩০), আল আমিন (৩০), সাদ্দাম (৩০), উজ্জল (৩০), অন্তর (৩০) ও ফয়জুর (৩২)।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মাদারগঞ্জ উপজেলার একই এলাকার চাঁন মিয়া (৫০), মো. জিয়ার (৪৫), শাহ আলম (৪১), কাওসার (২৯), রিফাত (৩১), সুমন (৩১) ও মোস্তফা (৪৯)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ। মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে মোস্তফার বাড়ির অবস্থান জানতে চায় পুলিশ। তাদের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে।

পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে মোস্তফা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার সহযোগী সাখাওয়াত ও সোহেল। পরে আরেক সহযোগী সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে হত্যার উদ্দেশ্যে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় মোস্তফার লোকজন। সেখানে মোস্তফার লোকজন মহর আলী ও তার ভাজিতা স্বপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পরে জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে দুইজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মহর আলী (১৯) গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ভাতিজা স্বপন মিয়া (১৬) একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং তিনি সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা।

আইনজীবী  আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বাকি আসামীদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। মামলায় ৪২ জনের মধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। বিচার প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ দশ বছর পর আজ রায় ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন। রায়ে সাতজন আসামীকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তাছাড়া অপর সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আদালাত যে রায় দিয়েছে তাতে আমি খুশি। আমার আবেদন যেন দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হয়।”

মামলায় আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমান উল্লাহ আকাশ, নওয়াব আলী ও নজরুল ইসলাম। চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ দুইবার পেছনো হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

   

About

Popular Links

x