Tuesday, September 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তথ্য উপদেষ্টা: স্বল্প সময়ের মধ্যে কমবে লোডশেডিং

শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমন্বিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি 

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

তিনি বলেন, “জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার চাপ এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে আগের তুলনায় বেশি লোডশেডিং হওয়ার এটিও একটি কারণ।”

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “মজুদে সমস্যা নয়। এ মুহূর্তে সব মজুত গত বছরের তুলনায় সমান বা খানিকটা বেশি রয়েছে। বিতরণ পর্যায়ে কোনো একটা জায়গায় সমস্যা হয়েছিল। সেটা আশা করছি ঠিক হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে এমন লোডশেডিং দেখছেন, যা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

তিনি বলেন, “একটি বড় শহরে বিদ্যুৎ বেশি দিতে হবে এই জন্য না যে এখানে পাওয়ারফুল মানুষরা থাকে, এটা এই জন্য যে বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকে। সেই কারণে নীতিগতভাবে একটা প্রবণতা আছে। কিন্তু যেহেতু এই সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে, তাই ঢাকায় এখন লোডশেডিং দেখছি আমরা।”

উপদেষ্টা বলেন, “অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে। ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং আসলে ছিল, কত মেগাওয়াটের লোডশেডিং হয়েছে। এই ডেটাগুলো নিয়ে আমি কাজ করছি।”

ওই সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, “সেই জায়গা থেকে আমরা সরে এসেছি। আমরা আশা করি জনগণ এটা বুঝবে।”

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। বিপরীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে এই চাহিদা কম ছিল।”

চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

জাহেদ উর রহমান বলেন, “দেশ এখন একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এর কিছুটা কষ্ট সবাইকে নিতে হবে। তবে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।”

   

About

Popular Links

x