খুলনার মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান ওরফে আরমিন ওরফে দীপুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৬ এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাবের সূত্র জানায়, একাধিক হত্যা মামলার আসামি আরমান গত কয়েকদিনের পুলিশের তৎপরতায় খুলনা ছেড়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পরিবারসহ অবস্থান নেয়। রবিবার দুপুরে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। দৌলতপুর থানায় একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিন্তু ভয়ে তার নামে কেউ কোনো মামলা করতে সাহস পায়নি। মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে গুলির ঘটনায়ও সে জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুন ভোরে খুলনায় মসজিদে ঢুকে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলিবিদ্ধ হন ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম ও আলম শেখ (৫৫)। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়। সাজ্জাদ হোসেন নামে একজন আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ওই ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আরমান হোসেন মোল্লা।
থানা সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৭ মে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। হত্যা, আগ্নেয়াস্ত্র, দস্যুতাসহ অন্তত সাতটি মামলার আসামি ছিলেন আরমান। ছয় মাস পর ওই বছরের ২৮ নভেম্বর তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। এর পর থেকে আত্মগোপনে থাকলেও একাধিক নতুন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার নাম এসেছে। গত ১৬ মার্চ দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিকুল আনাম রাশুকে গুলি করে হত্যা করেন সন্ত্রাসীরা। এ হত্যাকাণ্ডে সন্ত্রাসী নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম ও আরমানের নাম উঠে আসে।
৭ সেপ্টেম্বর সকালে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ আরমান গ্রুপের প্রধান শুটার আরমানকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিফিং করবেন র্যাব-৬, খুলনার উপ-অধিনায়ক ও সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. নাজমুল ইসলাম।



