উজানের ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে টানা সাত দিন ধরে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি বেড়েছে ১১ সেন্টিমিটার। এর ফলে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
পানি বাড়ার সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে, ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার হলেও বর্তমানে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে। শুধু পদ্মা নয়, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানিও বাড়ছে গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি নদীতেই পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার করে। মহানন্দার বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার এবং পুনর্ভবার বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকার অনেক মানুষ গবাদিপশু, ঘরের জিনিসপত্র ও ফসল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একরামুল হক নাহিদ জানান, নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং গবাদিপশু, জিনিসপত্র ও ফসল রক্ষায় বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম জানান, শিবগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ত্রাণসহায়তার আওতায় আনা হবে।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী জানান, সদর উপজেলার ১ হাজার ৮০০ ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৭০০ পরিবারসহ মোট প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ধাপে ধাপে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল পর্যন্ত নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে, এরপর বিকেল থেকে কমতে শুরু করার সম্ভাবনা আছে। তবে এই সময়ের মধ্যে জেলার তিনটি নদীর কোনোটিই বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।
পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



