চাঁদপুরে পুকুরের একাংশ ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলায় শাহাদাত হোসেন গাজী (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে ভরাট করা অংশ খনন করে বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে অপসারণের জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর-পশ্চিম বিষ্ণুদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদা।
অভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে শাহাদাত হোসেন গাজীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় ভরাট করা পুকুরের অংশ খনন করে অপসারণ করা বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য সাত দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, স্থানীয় ইদ্রিস গাজীর গরুর খামারের বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে এলাকার পুকুরের পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে অন্য প্রতিবেশী ও সর্বসাধারণের ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়া খামারের বর্জ্য দিয়ে পুকুরের অংশবিশেষ ভরাট করা এবং চলাচলের রাস্তা বন্ধ ও ঘাট ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে স্থানীয় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এ অবস্থায় পুকুরের আরেক অংশীদার শামীম মিজি পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পূর্বে এ বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে সমস্যা সমাধান করা হয়নি।
এরই প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ইদ্রিস গাজীর অনুপস্থিতিতে তার ছেলে শাহাদাত হোসেন গাজীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
পাশাপাশি নিজ খরচে বর্জ্য সরিয়ে পুকুরের ভরাটকৃত অংশ পুনঃখনন করা, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ও ঘাট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে পরিবেশের ক্ষতি না করার শর্তে মুচলেকা নেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া।
পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



