Thursday, October 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি অপারেটরের হাতে এনসিটি, অনুমোদন হলো খসড়া চুক্তি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে খসড়া চুক্তি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

আন্দোলনের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে খসড়া চুক্তি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্য কোন বিদেশি অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে শুরু থেকেই দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এ টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের চালু চারটি কন্টেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। গত বছর বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া কন্টেইনারের ৪৪ শতাংশই সামলেছে এই টার্মিনাল।

২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। এরপর থেকে টার্মিনালটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) কাঠামোয় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটির দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা পরিণতি পায়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সেই সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া আবার শুরু করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে চুক্তি নিয়ে আলোচনা জোরালো হলে আন্দোলনে নামেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরিস্থিতিতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে বিএনপির নতুন সরকার গত ৪ জুন ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনায় সহায়তার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে। জুলাইয়ে বন্দর চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, আলোচনায় দেশের স্বার্থে ‘কোনো ছাড় দেওয়া হবে না’।

তবে চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। তাদের আশঙ্কা, বহুজাতিক কোম্পানিকে ইজারা দিলে সরকার আয় থেকে বঞ্চিত হবে, দেশ থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হবে এবং “কনসেশন” চুক্তির কারণে বিপজ্জনক পণ্য খালাসের ঝুঁকিও তৈরি হবে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, “বিদেশিদের দিলে চট্টগ্রাম বন্দর যেমন লোকসানের দিকে যাবে ও দক্ষ কর্মশক্তি হারাবে তেমনিভাবে ভূ-রাজনৈতিক ভাবেও বাংলাদেশ একটা বিপদের সম্মুখীন হওয়ার সমূহ আশঙ্কা অনেক বেশি।”

এর আগে চট্টগ্রামের শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এক বিবৃতিতে দাবি করেছিল, এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান, শ্রমিকের অধিকার এবং বন্দরের ওপর ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে একাধিক সংগঠন মানববন্ধন ও সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।

   

About

Popular Links

x