Tuesday, October 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সুন্দরবনঘেঁষা ১৮ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ

খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন এমন ১৮টি রিসোর্ট ও ইকো কটেজের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট মালিকদের এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা দেন। 

নির্দেশনা অমান্য করলে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং নিয়মিত মামলা করার মতো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকায় থাকা রিসোর্টগুলো হলো, অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।

পরিবেশ অধিদপ্তরসূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকায় এসব রিসোর্টের অবস্থান। অনুমোদন ছাড়াই রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে এর আগে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। জবাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে অনুমোদনের আবেদন করা হলেও চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি তারা। ফলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের আবেদন বাতিল করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, “অনুমোদন ছাড়া রিসোর্ট নির্মাণ করায় আগে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছিল। তারা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি অনুমোদনের আবেদন করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে না পারায় আবেদনগুলো বাতিল করা হয়েছে। এরপর সব প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।”

তিনি জানান, নতুন করে নির্মাণ করা আটটি রিসোর্টকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাত দিনের মধ্যে অনুমোদনযোগ্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার তাদের কার্যক্রম বন্ধ এবং ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সুন্দরবনের চারপাশে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় একের পর এক অনুমোদনহীন রিসোর্ট নির্মাণ ও পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন শিরোনামে নানান পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সেখানে অনুমোদনহীন রিসোর্ট নির্মাণের পাশাপাশি সুন্দরবনের ভেতরে অবৈধভাবে পর্যটক চলাচল, ডলফিন অভয়ারণ্য ঘোষিত ঢাংমারী খালে পর্যটকবাহী ট্রলারের অবাধ চলাচল এবং এর ফলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি উঠে আসে। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ বলেন, “খুলনা জেলা কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় থাকা ১৮টি রিসোর্টের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে চিলা, বৈদ্যমারী ও চাঁদপাই এলাকা বাগেরহাট জেলার মধ্যে হওয়ায় সেখানকার রিসোর্টের বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য নেই।”

   

About

Popular Links

x