কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হত্যার হুমকি দিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ নানার বিরুদ্ধে। পেটে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অভিযুক্ত রইচ উদ্দিন (৫৫) স্থানীয়দের হাতে আটক হলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই কৌশলে পালিয়ে যান।
অভিযুক্ত রইচ উদ্দিন উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। পুলিশ ও স্বজনেরা জানান, প্রায় এক যুগ আগে ক্যানসারে শিশুটির মা মারা যান। পরে তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর সৎ মা শিশুটিকে সৎ নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ, সেখানে একা পেয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে রইচ উদ্দিন তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
সম্প্রতি শিশুটি পেটে ব্যথা অনুভব করলে স্বজনেরা তাকে স্থানীয় এক গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে টিউমারের ধারণা করা হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে স্থানীয়রা রইচ উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই তিনি পালিয়ে যান।
ঘটনার পর শিশুটি ও তার নানী কুমারখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে আবার চিকিৎসা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিশুটির নানী বলেন, “হত্যার হুমকি দিয়ে আমার নাতনিকে এক বছর ধরে ধর্ষণ করেছে সৎ নানা। পেটে ব্যথার কথা শুনে বাড়ির পাশের গাইনি চিকিৎসককে দেখালে তিনি জানান, নাতনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।“ শিশুটির মামা বলেন, “সঠিক বিচারের আশায় থানায় মামলা করতে এসেছি। আমরা উপযুক্ত শাস্তি চাই।”
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”



