বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রত্যাশিত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ব্যাপকভাবে কমিয়ে ৩.৪% এ নামিয়ে আনা হয়েছে।
গত এপ্রিলে ৪.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। সেই হিসাবে এবার পূর্বাভাস কমেছে ১.২ শতাংশীয় পয়েন্ট। নতুন এই পূর্বাভাস ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির অভিঘাতের সময়কার ৩.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়েও কম এবং সরকারের নির্ধারিত ৬.৫% লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক পিছিয়ে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের পর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিই হতে পারে সর্বনিম্ন। বিপরীতে, ২০২৭ সালে পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের গড় প্রবৃদ্ধি ৬.৭% হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসায়ী মহলে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হলেও, প্রায় আট মাস পরও কাঠামোগত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অর্থনীতির গতি ফেরাতে বাধা হয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘায়িত জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং খাতের গভীর দুর্বলতা, বেসরকারি খাতে ঋণের মন্থর প্রবৃদ্ধি এবং প্রত্যাশার তুলনায় কঠিন রাজস্ব পরিস্থিতি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর প্রধান কারণ।
দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিয়েও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে চাহিদা কমে যাওয়ায় স্বল্পমেয়াদে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানির প্রবৃদ্ধি মন্থর হতে পারে।
গত মাসে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি) চলতি অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এর আগে জুলাইয়ে ৪.৫% এবং এপ্রিলে ৪.৭ % প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক ও এডিবি-দুই আন্তর্জাতিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানই সরকারের নির্ধারিত ৬.৫% প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের নতুন হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪% নেমে এসেছে। এর ফলে টানা তৃতীয় বছরের মতো দেশের প্রবৃদ্ধির হার কমেছে।



