Wednesday, October 07, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নাগরিকের কললিস্ট-এনআইডি তথ্য ফাঁসের অভিযোগ, ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মোবাইল সিমের অবস্থান, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), খুদে বার্তা ও পাসপোর্টসহ নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার বিভাগ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সিডিআরসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগে কয়েক দিন আগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।“

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, ডেমরা থানার কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ ও মাসুম মিয়া, ওয়ারী থানার কনস্টেবল নিজাম উদ্দীন এবং তুরাগ থানার কনস্টেবল মো. জিহাদ মিয়া।

ডিবির একটি সূত্র জানায়, সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ভুয়া মামলা ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সিডিআর সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এভাবে সিডিআর, এনআইডির তথ্য, লাস্ট কল লোকেশনসহ নানা গোপন তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি করা হতো।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তুরাগ থানার সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ১১টি মোবাইল নম্বরের তিন মাসের সিডিআর ও এনআইডির তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এ জন্য তুরাগ থানার একটি জিডি নম্বর ও একজন সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নাম ব্যবহার করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই নম্বরের কোনো জিডি থানায় নথিভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট এএসআইও এসব নম্বরের সিডিআর চাননি।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদুর রহমান বাদী হয়ে ওই চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করেন। মামলায় অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩; বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ।

এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী হয়েও প্রতারণার মাধ্যমে বেআইনিভাবে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্যের কাছে হস্তান্তর এবং নাগরিকের কললিস্ট, লাস্ট কল লোকেশন ও এনআইডিসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ডিবির সাইবার মনিটরিংয়ের সময় গত ১০ সেপ্টেম্বর ফেসবুকের একটি অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপের একটি অ্যাকাউন্ট ও টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সিডিআর বিক্রির তথ্য নজরে আসে। পরে অনুসন্ধানে সিডিআর বিক্রির টাকা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি বিকাশ নম্বরের তথ্যও পাওয়া যায়।

   

About

Popular Links

x