Thursday, October 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চিংড়ি হ্যাচারিতে নতুন প্রযুক্তির সৌর প্যানেল, উৎপাদন হবে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ

প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি বাগদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হচ্ছে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। স্থানীয় ওশান হ্যাচারিতে প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ।

প্রকল্প থেকে প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের একটি প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। দলে ছিলেন চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) সাতক্ষীরা অঞ্চলের কর্মকর্তা সোয়াইব হোসেন এবং সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মো. গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

পরিদর্শনের সময় সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাজেদুল করিম বলেন, “বাগদা চিংড়ির হ্যাচারিতে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে এটাই প্রথম। এতে সৌর প্যানেলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী একপাশে ভাঁজ করে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে হ্যাচারির ট্যাংক শুকানোর সময় পুরো জায়গা খালি করা সম্ভব হবে।”

তিনি জানান, প্রকল্পে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চালু থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি দেশের অন্যান্য চিংড়ি হ্যাচারির জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।

হ্যাচারির মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, “নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দিতে পারবেন তিনি। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমবে এবং প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে আশা করছি।”

তিনি জানান, প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হ্যাচারির ছাউনি খুলে পুকুর ও ট্যাংক রোদে শুকাতে হতো। নতুন প্রযুক্তির প্যানেল ব্যবহারের ফলে কাজটি সহজ হবে এবং হ্যাচারির কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকবে।

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠান ও কারখানা নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর বাড়তি সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে পারবে। সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সেই বিদ্যুৎ কিনবে।”

তিনি আরও বলেন, “ওশান হ্যাচারিতে স্থায়ী প্যানেলের বদলে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনের সময় প্যানেল সরিয়ে পুকুর ও ট্যাংকে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছানো যায়। শ্যামনগরের অন্যান্য হ্যাচারিতেও এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”

পরিদর্শনকালে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশেষ প্যানেল স্থাপন পদ্ধতি, হ্যাচারির উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সমন্বয়, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

   

About

Popular Links

x