মহাকাশে বড় বিপদ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট “বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১” (বিএস-১)। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের “স্পেস ট্র্যাকার” থেকে জানানো হয়, ভারতের একটি পুরোনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুত বেগে বিএস-১ এর দিকে ধেয়ে আসছে। সতর্কবার্তা পৌঁছায় গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে।
মহাকাশে এ ধরনের সংঘর্ষের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। ২০০৯ সালে এমন এক সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সচল ও রাশিয়ার একটি অকেজো স্যাটেলাইট চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। বিএস-১ এবার ঠিক সেই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।
হাতে সময় ছিল খুবই কম, স্যাটেলাইটটিকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও ছিল সীমিত। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) মতো করে স্যাটেলাইট-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা ওই সময় প্রায় নির্ঘুম কাটান। রাজধানীর বাংলামোটরে বিএসসিএল কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, চার দিন সবাই চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। ছুটি বাতিল করে ৫০ জনেরও বেশি প্রকৌশলীকে কাজে ডাকা হয়। মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছিলেন।
পরে জানা যায়, ধেয়ে আসা ধ্বংসাবশেষটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইট “ইনস্যাট-১এ” এর অংশ। এর আগে ২০২১ ও ২০২৫ সালেও এমন ঝুঁকিতে পড়েছিল বিএস-১।
নিখুঁত হিসাব কষে ১৩ আগস্ট প্রকৌশলীরা স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে বেরিয়ে যায় ধ্বংসাবশেষটি। বিপদ কেটে যাওয়ার পর স্যাটেলাইটটিকে আবার আগের নির্দিষ্ট কক্ষপথে ফিরিয়ে আনা হয়।
বিদেশি সহায়তা ছাড়াই দেশের প্রকৌশলীদের এই সফল পদক্ষেপ মহাকাশ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।



