Tuesday, October 13, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, লক্ষ্য ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবার

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী একযোগে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রথম ধাপশুরু হয়েছে। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ফ্যামিলি কার্ড ডেটাবেইসের তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন।এ কার্যক্রম পরিচালনায় "ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬" প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার ধরে এ হিসাব করা হয়েছে বলে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সোমবার তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, "নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।এর অংশ হিসেবে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।"

মন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাইলটিংয়ে বরাদ্দ ছিল ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভাতা খাতে বরাদ্দ ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।"

প্রক্সি মিন্স টেস্ট একটি বৈজ্ঞানিক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক পদ্ধতি, যেখানে সরাসরি আয়ের হিসাব না নিয়ে পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও আর্থসামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে দারিদ্র্য বা সচ্ছলতার মাত্রা নির্ণয় করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ করা এ পদ্ধতিতে সব পরিবারকে পাঁচটি কোয়াইন্টাইলে ভাগ করা হয়েছে: অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। সব পরিবারের নারী প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে ভাতা পাবেন পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়াইন্টাইলভুক্ত পরিবারের নারী প্রধানেরা।

মন্ত্রী জানান, তথ্য সংগ্রহকর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে। তারা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশেষায়িত ট্যাবলেটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করছেন, যা সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইসে যুক্ত হবে। সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ডেটাবেইস থেকে পরে পিএমটি পদ্ধতিতে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

চলতি অর্থবছর নতুন ৪০ লাখ পরিবারের নারী প্রধানকে কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে যোগ্য সব নারী প্রধানকে এর আওতায় আনা হবে। কার্ডে ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকাপে পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।"

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সমাজকল্যাণসচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

   

About

Popular Links

x