টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। এখন পর্যন্ত এ অংশের কাজ হয়েছে মাত্র ৫২%।
সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফা বাড়লেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেইসঙ্গে প্রকল্পের টাকার পরিমাণও বেড়েছে।
বিভিন্ন সময়ে এ মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজের ধীর গতির অভিযোগ পরিবহন চালক ও যাত্রীদের। আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে তারা।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় এই অংশ নির্বিঘ্নে যাতায়েত করতে পারছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪টি জেলার যাত্রীরা। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এলেঙ্গাতে মহাসড়কের এ অংশে ফ্লাইওভারের কাজ চলমান থাকায় সংকুচিত হয়ে পড়ে মহাসড়কের এ অংশের প্রশস্ততা। ফলে প্রতিনিয়তই লেগে যাচ্ছে গাড়ির জট।
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও শেষ হয়নি কাজ
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সাসেক-২ প্রকল্প আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়কের উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনেম লিমিটেড। তখন এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ৫৯৩ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মার্চ মাসে মহাসড়কের উন্নীতকরণের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয় এ দফা। পরবর্তীতে পুনরায় আরেক দফায় তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এতে এ প্রকল্পের টাকা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭০৪ কোটিতে। কিন্ত এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫৫%।
ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের একমাত্র সংযোগ
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের একমাত্র সংযোগ এই মহাসড়কটি। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের ভিড়ে এই মহাসড়কে সৃষ্টি হয় যানজটের। প্রতি বছর ঈদে এ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন, যা অন্যন্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয়। চলতি বছরের ঈদযাত্রায় এ সড়কে যানবাহনের চাপে মহাসড়কে যানজট ও ধীরগতি ছিল। যার ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে যাত্রী এবং চালকদের।
এদিকে এলেঙ্গায় চলমান ফ্লাইওভারের কাজের জন্য মহাসড়কে ওই অংশে আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে যানবাহনের ধীর গতির শঙ্কা করা হচ্ছে।
যমুনা সেতু এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ব্রিজ ৮টি এবং ১০টি কালভার্টের কাজ শেষ হয়েছে। চলমান এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের পাইলিং কাজ শেষের দিকে, গার্ডারের কাজ চলছে। ঈদের আগে এ ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও মহাসড়কের রাস্তার মাঝ অংশের কাজ চলমান রয়েছে। এটি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৩টি আন্ডারপাসের কাজ চলমান রয়েছে। এইসব আন্ডারপাসের পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে, এখন কলামের কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বলছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫২% কাজ হয়েছে। আর সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রায় ৫৫% কাজ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এলেঙ্গাতে ফ্লাইওভারের কাজ চলমান রয়েছে। মাটির নিচে পাইলিং করর পর উপরে কংক্রিটের মূল খুঁচি তৈরা করা হয়েছে। অপরদিকে পিলারের উপরের অংশে রডগুলো সঙ্গে পিয়ার ক্যাপ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। এরপর ফ্লাইওভারের মূল গার্ডার বসানো হবে। এছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার সিসি ঢালাই হচ্ছে।
মহাসড়কের আনালিয়া বাড়ি এলাকায় কথা হয় এ অংশের দেখাশুনার দায়িত্বে তাকা মহব্বত হোসেনের সঙ্গে। তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এখন আমাদের অংশে সড়কের সিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে। সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত কর্মচারীরা কাজ করে থাকেন।”
এদিকে, পরিবহন চালকরা বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। যার ফলে বিভিন্ন সময়ে যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজের ধীর গতি।”
উত্তরবঙ্গের বাসচালক মজনু মিয়া বলেন, “এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কারণে ধীরগতি হচ্ছে। প্রতি ঈদ যাত্রায় মহাসড়কের এ অংশে যানজটের তৈরি হয়। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি করছি।”
আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, “এখন পর্যন্ত ৫২ % শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর হয়েছে। তবে এই মেয়াদেও প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে না।”
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে। কাজের গতিতে আশানুরূপ নয়। কাজের গতি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। তবে নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়লেও পুরোপুরি কাজ শেষ হবে না। আরেক দফায় ৬ মাসের মেয়াদ বাড়তে পারে।”



