Monday, October 19, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

একই সঙ্গে স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় কলেজ শিক্ষক

শনিবারের এই দুর্ঘটনায় স্ত্রী-সন্তানদের হারিয়ে এখনও বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন তিনি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ঘিরেই আবর্তিত হতো কলেজ শিক্ষক শহিদুল ইসলামের জীবন। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যু হয়। নিহতের এই তালিকায় আছেন কলেজ শিক্ষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই সন্তান।

উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের শিবেরডাঙি বাজারের কাছে এই দুর্ঘটনায় স্ত্রী-সন্তানদের হারিয়ে তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফিরলে ফের ডুকরে উঠছেন। স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। একই অবস্থা পল্লি চিকিৎসক কামরুজ্জামান বাদলের। স্ত্রীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। 

ট্রাক অটোরিকশার ওপর উঠে যাওয়ায় শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি, ছেলে রিশাদ (১২), মেয়ে তুবা (৭) এবং লিপির বোন ও উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী গ্রামের পল্লি চিকিৎসক কামরুজ্জামান বাদলের স্ত্রী শরিফা খাতুনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অটোরিকশা চালকও। 

একই ঘটনায় নিহত শরিফার মেয়ে কামরুন্নাহার বৃষ্টি (২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত শরিফার দেবর বকুল মন্ডল জানান, তিন চারদিন আগে শরিফা ও লিপি তাদের সন্তানদের নিয়ে ময়মনসিংহে ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে তাদের একমাত্র ভাইয়ের সঙ্গে মা থাকেন। 

শনিবার ভাইয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিলেন তারা। অটোরিকশাটি রৌমারীর শিবেডাঙি বাজারের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ধানবাহী ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই লিপি, শরিফা ও অটোরিকশা চালক নিহত হন। গুরুতর আহত বৃষ্টি, রিশাদ ও তুবাকে রৌমারী স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক রিশাদ ও তুবাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বৃষ্টিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বকুল মন্ডল বলেন, “দুর্ঘটনার পর স্বজনদের হারিয়ে কেউ কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। সবাই শোকে কাতর। কীভাবে কী হয়ে গেলো!”

শহিদুল ইসলাম রৌমারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। 

কলেজটির অধ্যক্ষ হুমাউন কবির বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা শহিদুলের কাছে ছুটে যাই। তিনি হাসপাতালে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের লাশ দেখে ডুকরে ওঠেন। বারবার মূর্ছা যান। জ্ঞান ফিরে আসলে ফের ডুকরে কেঁদে উঠেন। তার জীবন বলতে ওই স্ত্রী আর দুই সন্তান। ওরাই ছিল ওর  অবলম্বন।  তাদেরকে ঘিরেই তার পৃথিবী, সকল আনন্দ। সকলকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায়। আমরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।”

রবিবার সকাল ৮ টায় শহিদুলের স্ত্রী-সন্তানদের জানাজা নামাজ শেষে দাফনের প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান অধ্যক্ষ।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, “ট্রাকের মালিক ও চালককে সনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

   

About

Popular Links

x