Wednesday, October 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নাক ও টনসিলের অস্ত্রোপচারে গিয়ে শিশুর মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর

সাভারের পৌর এলাকার উলাইলে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ পিএম

ঢাকার সাভারে নাকের পলিপাস ও টনসিলের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে পৌর এলাকার উলাইলে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালান।

মারা যাওয়া শিশুর নাম আব্রাহাম। ঘটনার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. সুমন হোসেনসহ হাসপাতালের অন্য চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তারা সেখান থেকে চলে যান। তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের মালিক ডা. মো. আব্বাস উদ্দিনের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

শিশুটির মা কনা আক্তার জানান, ছেলের নাকে পলিপাস ও টনসিলের সমস্যা ছিল। কয়েক দিন আগে তিনি ছেলেকে ডা. সুমন হোসেনকে দেখান। চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়ে অপারেশনের আগের পরীক্ষা হিসেবে ইসিজি ও ইকো করাতে বলেন। গতকাল হাসপাতালে গিয়ে ইসিজি করা গেলেও চিকিৎসক না থাকায় ইকো করা যায়নি। তখন বাইরে থেকে ইকো করিয়ে আনার কথা বললে ডা. সুমন জানান, ইসিজি রিপোর্ট ভালো আছে, ইকোর প্রয়োজন নেই।

কনা আক্তার আরও জানান, চিকিৎসকের পরামর্শেই বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে যান। এরপর শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। দেড় ঘণ্টা পর থিয়েটারের সামনে চিকিৎসক ও নার্সরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। তাকে ডেকে জানানো হয়, ছেলের সমস্যা হয়েছে, আইসিইউতে নিতে হবে। পরে তাদের পরামর্শে দুপুর ২টার দিকে শিশুটিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভুল চিকিৎসায় ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, “শিশুটিকে যখন সেখানে আনা হয়, তখন তার হৃৎস্পন্দন বা জীবনের কোনো লক্ষণ ছিল না। পরীক্ষা করে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারকে জানানো হয়।“ মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি  জানান, শুনেছেন আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে অজ্ঞান করার পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হয়।

ঘটনার পর আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন রোগী ভর্তি থাকলেও কোনো চিকিৎসক বা নার্স নেই। এতে চিকিৎসাধীন রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “দুপুরে ভাঙচুরের পর থেকে কোনো চিকিৎসক-নার্সকে খুঁজে পাননি। তারও অপারেশন হয়েছে, এ অবস্থায় কী করবেন বুঝতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা পালিয়ে গেছেন, অধিকাংশ রোগীও চলে গেছেন; দু-তিনজন রোগী হাসপাতালে রয়েছেন।“

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতালের মালিক ডা. মো. আব্বাস উদ্দিন ও অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সুমন হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে দুটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে বারী বলেন, “অপারেশন থিয়েটারে এক শিশুর মৃত্যুর খবর তিনি জেনেছেন, তবে এ নিয়ে কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজর আলী জানান, সুরতহালের সময় শিশুর শরীরে কোনো কাটাছেঁড়া পাওয়া যায়নি, তবে নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার চিহ্ন ছিল। তিনি শুনেছেন, অজ্ঞান করার ওষুধ প্রয়োগের পরই শিশুটি মারা যায়। পরে স্বজনেরা হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালান।

   

About

Popular Links

x