Wednesday, October 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গোপালগঞ্জে বিজয়া দশমীতে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

এ আয়োজনে নদীর দুই পাড়ে সমবেত হন কয়েক হাজার দর্শক

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। ঘাঘর নদীতে বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে নদীর দুই পাড়ে সমবেত হন কয়েক হাজার দর্শক।

প্রতিবছর বিজয়া দশমীর দিনে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয় এ নৌকা বাইচ। এ বছর কোটালীপাড়া ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও মাদারীপুর, বাগেরহাট ও বরিশাল জেলা থেকে বহু মানুষ এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে আসেন। এবারের বাইচে অংশ নেয় ১৪টি বাচারী নৌকা।

নান্দনিক এ নৌকা বাইচ দেখতে প্রতিবছর বিজয়া দশমীর দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ। জীবিকার প্রয়োজনে কোটালীপাড়ার অনেক বাসিন্দা গ্রামের বাইরে বসবাস করলেও এ উপলক্ষে তারা পরিবার নিয়ে ফিরে আসেন গ্রামে। দিনটি কাটান গ্রামীণ পরিবেশ ও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে।

কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার বলেন, “প্রচলিত আছে, প্রায় দেড়শ বছর আগে যশোরের বিঘাপতির জমিদার খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিন ঘাঘর নদীতে মেলা ও নৌকা বাইচের আয়োজন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা থেকেই প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় এখানে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ আয়োজনে কোটালীপাড়ার সব ধর্মের মানুষ অংশ নেন।“

গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, “নদী, খাল ও বিলে ঘেরা কোটালীপাড়ার বিভিন্ন স্থানে শত বছর ধরে বিশ্বকর্মা, দুর্গা ও লক্ষ্মীপূজাকে কেন্দ্র করে নৌকা বাইচ হয়ে আসছে। এ আয়োজনের জন্য আলাদা করে কাউকে উদ্যোগ নিতে হয় না, এমনকি বিজয়ীদের কোনো পুরস্কারও দেওয়া হয় না। কোটালীপাড়ার এ নৌকা বাইচ একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন।“

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতেও এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ যাতে টিকে থাকে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।“

স্থানীয়দের কাছে এ নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক মিলনমেলা।

   

About

Popular Links

x