১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ও বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনায় রাজধানীতে পালিত হচ্ছে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে রাজধানীর ৩৩টি নির্ধারিত স্থানে সাশ্রুনয়নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এর মধ্যে পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট (এসআরইউ), সোয়াত (SWAT), বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও এসআরবি সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা শুরু হয়। শঙ্খনাদ, উলুধ্বনি ও ঢাকের বাদ্যের তালে তালে ভক্তদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি জগন্নাথ হল, দোয়েল চত্বর, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড ও রায়সাহেব বাজার মোড় হয়ে ঐতিহ্যবাহী ওয়াইজঘাটে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে বুড়িগঙ্গার জলে একের পর এক বিসর্জন দেওয়া হয় দুর্গা প্রতিমা।
তবে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মূল প্রতিমাটি বিসর্জন দেওয়া হয় না। মন্দিরের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী মূল প্রতিমাটি পরবর্তী বছরের পূজার জন্য সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রতীকী বিসর্জন হিসেবে সপ্তমীর দিন প্রতিষ্ঠা করা 'কলাবউ' নদীগর্ভে বিসর্জন দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঢাকা মহানগরে ২৫৮টি মণ্ডপসহ সারা দেশে সর্বমোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। আর রাজধানী ও আশপাশের প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের মোট ১১টি ঘাট নির্ধারণ করে দেয় প্রশাসন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশন) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, “রাজধানীতে অভূতপূর্ব ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিসর্জনের বাকি প্রক্রিয়াও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।”



