Wednesday, October 28, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

গ্রেপ্তার ৩ জন আসামির কাছ থেকে স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল জয়পুরহাট ও হিলি সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান এক  প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকার বাসিন্দা সাদিকুল ইসলাম (২৬), একই এলাকার আলমগীর হোসেন (৪৩), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৬) এবং বালিঘাটা গ্রামের আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন একদিনের রিমান্ডে ছিলেন। পরে চারজনকেই আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, খায়রুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন যে, তিনি একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। গত ৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তিনি তার খালাতো ভাই বাপ্পী হোসেনের মাধ্যমে ২৪ ক্যারেটের ১০টি  স্বর্ণের বার জয়পুরহাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠান। যার সর্বমোট ওজন ১০২ ভরি ১২ আনা।

বাপ্পী হোসেন বেলা ১২.০৫ মিনিটে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছেন। এ সময় অজ্ঞাত ৩-৪ জন দুষ্কৃতিকারী পুলিশ পরিচয়ে বাস থামিয়ে বাপ্পী হোসেনকে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে মারপিট করে। এরপর তার কাছ থেকে ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ‍এরপর তাকে গুজিয়া মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় ২৭ অক্টোবর মামলা করেন খায়রুল ইসলাম।

এরপর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ২৮ অক্টোবর পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার তরীনয়হাট এলাকা থেকে সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যে দিনাজপুর উপজেলার হাকিমপুর উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে নিজ বাড়ি থেকে তল্লাশি করে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এই দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবির ভীমপুর এলাকা থেকে আসামি রবিউল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সাদেকুল ইসলামের বসতবাড়ি থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে, আসাদুজ্জামান শাহিদের গরুর ফার্মের অফিস কক্ষ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সর্বমোট  ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামি আলমগীরের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন, মারামারিসহ ১০টি মামলা এবং আসামি রবিউলের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

ওসি ডিবি ইকবার জানান, গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে পাঁচদিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। বুধবার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

   

About

Popular Links

x