Tuesday, November 03, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, আহত ৩০

পুলিশ জানায়, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৬০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা, গ্রেপ্তার ৭ জন

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে শিল্প পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোগড়া, নাওজোর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়াল সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

একই সময়ে কোনাবাড়ীর বে-ফুটওয়্যার, মৌচাক এলাকার পূর্বাণী এবং তেলিচালা এলাকার লগোস অ্যাপারেলস ও এটিএস অ্যাপারেলস পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরে গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) উপ-কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদেরকে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

অপরদিকে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। হঠাৎ করে আন্দোলরত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে ইটের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে আন্দোলরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসাইন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অন্তত ৬০টি কারখানা আজকের জন্য বেলা ১১টার পর থেকে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সাত নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কারখানা শ্রমিক নন। শ্রমিকদের বিক্ষোভে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং বেলা ১১টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। আধাঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অপরদিকে তিন ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তিনি আরও জানান, এর আগে সকাল পৌনে ৮টার দিকে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোন ধরনের সংঘাত ছাড়াই তাদেরকে বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেয়। একই সময় গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ মোড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও বিজিবি'র সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে নেয়।

   

About

Popular Links

x