কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করাকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে বোমা সদৃশবস্তু নিক্ষেপ করা হয়।
বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভেতর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলছিল। ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “আমি তখন আমার নিজ কক্ষে ছিলাম। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বাইরে এসে সবাইকে বের হতে দেখি।”
“তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা বলতে পারবো না। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কয়েকজন জমা দেয়। পরে এক শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এর কয়েক মিনিট পরই বাইরে এ ঘটনা ঘটে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেন বলেন, “ঘটনার পরপর বিষয়টি জানতে পারিনি। সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের পেছনের দিকে বিকট শব্দ শুনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি তারা তদন্ত করছে।”
দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে যা পেয়েছি একজন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছিল। সে আরও তিনজন অজ্ঞাতনামা তার বন্ধু যেয়ে স্কুলের পেছনে বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পুলিশের ধাওয়ায় তিনজন পালিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে স্কুল কমিটির একটি এজাহার দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, “বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



