ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে হওয়া বিক্ষোভে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে বিক্ষোভকে ঘিরে ‘নাশকতা ঠেকাতে’ মাঠে নেমেছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল ও ছাত্রদল। ‘শ্রমিক-বিএনপি ভাই-ভাই’ স্লোগান দিয়ে মিরপুরে বিএনপির নেতাকর্মীদের লাঠিমিছিলের ভিডিও এবং খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে পোশাক শ্রমিকের ‘ছদ্মবেশে’ নাশকতার অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টায় নিষিদ্ধ সংগঠনের (আওয়ামী লীগের) ৩৩ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশন এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলে। পোশাক শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এ সময় মিরপুর-১১ নম্বরে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লাঠি হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
পল্লবী থানা যুবদলের আহ্বায়ক নূর সালাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘পোশাক শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন, এটা তাদের অধিকার। এ নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই আন্দোলনে ঢুকে যুবলীগ-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর চালাচ্ছে, নাশকতা করছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এই নাশকতা ঠেকাতে আমরা মাঠে নেমেছি৷ গতকালও আমরা তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।’’
মিরপুর-৭ নম্বরে কয়েকটি কারখানার গেটে অবস্থান নেয়া নারী শ্রমিকরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন, এটা যেমন সত্যি, বহিরাগতরা এসে ভাঙচুর করছে-সেটাও সত্যি।
তারা আরও বলেন, ‘‘কে শ্রমিক আর কে বহিরাগত তা তো বোঝা যায় না! সে জন্য তো আমাদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন বন্ধ রাখতে পারি না। আমরা ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা চাই। পুলিশের কাজ বহিরাগতদের খুঁজে বের করা। কিন্তু তারা নিরীহ শ্রমিকদের মারধর-গ্রেপ্তার করছে।’’
আন্দোলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. তৌহিদুল আরিফ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘‘মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে কিছু ‘দুষ্কৃতিকারী’ সকালে রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করেছিল, রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছিল। আমরা কঠোর হাতে দমন করেছি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা আরো কঠোর হচ্ছি, কারণ, এখন যারা আছেন, তারা কোনো অর্থেই গার্মেন্টসকর্মী বা শ্রমিক না। এখন যারা মাঠে আছে, তারা কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আছে-দুষ্কৃতিকারী। সে কারণে আমরা কঠোর হাতে দমন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’’
শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। কতজনকে আটক করা হয়েছে তার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।



