খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশা মানিকতলা খাদ্য গুদাম থেকে ইনভয়েস ছাড়া সোমবার দিনগত গভীর রাতে গম বের করার সময় সাইলো বিভাগ দুইটি ট্রাক আটক করে। এ ঘটনায় শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আরিফ হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই অবরোধ চলে। এ সময় সড়কের দুপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা অবরোধ সাময়িক স্থগিত করে সভাপতিকে মুক্তির দাবি জানান। অন্যথায় পুনরায় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন।
এছাড়া, সকাল থেকেই মানিকতলা খাদ্য গুদামের সব ধরনের লোড-আনলোড বন্ধ থাকে। বিকেল ৩টায় দুইজনকে আটককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ে। এ অবস্থায় শ্রমিকরা সাইলো গেট আটকে দিলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি), ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৫০ জন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, বেলা ১২টার দিকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন ও খুলনা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। তবে দুপুরের পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেলা পৌনে ৩টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সাইলো ভবনের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা গেট আটকে দিলে অবরুদ্ধ হন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম রেজা, দৌলতপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার, খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৫০ জন। খাদ্য গুদাম ও সাইলো এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও খাদ্য গুদাম সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর) দিনগত রাতে মহেশ্বরপাশা সিএসডির অভ্যন্তরে অবস্থিত গম সংরক্ষণাগার থেকে ইনভয়েস ছাড়া অবৈধভাবে দুই ট্রাক গম বোঝাই করে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে গেট দিয়ে বের করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা ট্রাক দুটি আটক করে। পরে পুলিশ, খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও মহেশ্বরপাশা সিএসডি কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন, মহেশ্বরপাশা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, গম সংরক্ষণাগার সাইলোর ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মেহেদী এবং হিসাব শাখার কর্মচারী ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এলইউ প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।
পরবর্তীতে বিক্ষোভ চলাকালে বিকেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন গম সংরক্ষণাগারের কর্মচারী ইমরান হোসেন এবং রাজিব।
সাইলো সুপারভাইজার অরুপ কুমার জানান, অনিয়ম পাওয়ার পর খাদ্য কর্মকর্তা ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
দৌলতপুর থানার পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “দিনভর শ্রমিক উত্তেজনার মধ্যে কিছু সময় ভেতরে অবস্থান ছিল পুলিশ ও খাদ্য কর্মকর্তাদের। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রথমে আটক তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিকেলে আটক দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”



