Thursday, November 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রধানমন্ত্রী: কলকারখানা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীরা চব্বিশের মতো জবাব পাবে

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে দেশের কলকারখানা ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। ২০২৪ সালের মতো দেশের মানুষ এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে উপযুক্ত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনগুলোতেও আমরা তাদের উচিত জবাব দেব।”

দেশের শিল্পকারখানা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে, বিশেষ করে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমজীবী, শ্রমিক কখনও কোনো শিল্পকারখানার ক্ষতি করতে চাইবেন না। এসব কলকারখানা জাতীয় সম্পদ। এগুলো এ দেশের মানুষের, শ্রমিকদের।”

তারেক রহমান বলেন, “মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং পরিকল্পনা তৈরি করেছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন দেশ গড়ার ও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সময়। আসুন, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে আমরা আমাদের সব শক্তি দিয়ে এসব ষড়যন্ত্রকারীকে উপযুক্ত জবাব দিই।”

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে যারা মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারেনি, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, তারাই এখন সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, “কলকারখানা ধ্বংস হলে শ্রমিক ও তাদের পরিবারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ তাদের জীবিকা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ এসব কারখানার ওপর নির্ভরশীল।”

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান জানান, শ্রমিকদের দাবিদাওয়া বিবেচনায় নিতে সরকার ইতোমধ্যে একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে। এতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, খুলনার শিল্পনগরীর পরিচয় ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। পাশাপাশি খুলনা, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গাসহ অন্যান্য অবহেলিত এলাকায় শিল্পের বিকাশ ঘটাতে চায়।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা এ অঞ্চল থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চাই, যাতে মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় এবং এসব অবহেলিত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত হয়।”

মোংলা বন্দরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সড়কপথে খুলনায় যাওয়ার সময় কাটাখালীতে এ পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি বাগেরহাটে হজরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।

এর আগে, দিনের শুরুতে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন তারেক রহমান।

এছাড়া তিনি মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

   

About

Popular Links

x