ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে ১১ নভেম্বর। ওই দিন দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। ইউনিটগুলো হলো কলা, আইন ও সামাজিকবিজ্ঞান, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, চারুকলা এবং আইবিএ।
নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস আগামী ২৮ মার্চ ২০২৭ থেকে শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি
ভর্তি পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা হবে ৫ ডিসেম্বর, বিজ্ঞান ইউনিটের ১২ ডিসেম্বর, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের ২২ ডিসেম্বর এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ডিসেম্বর।
আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। অন্য চারটি ইউনিটের পরীক্ষা হবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
চারুকলা ও আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্য তিনটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা ছাড়াও আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
আবেদনের যোগ্যতা
আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাধ্যমিক বা সমমান এবং ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বিজ্ঞান ইউনিটে আবেদনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় (চতুর্থ বিষয়সহ) জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৮ থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পরীক্ষায় আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীরাও এ ইউনিটে আবেদন করতে পারবেন। তাদের ক্ষেত্রে জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং প্রতিটি পরীক্ষায় আলাদাভাবে জিপিএ ৩ থাকতে হবে।
কলা, আইন ও সামাজিকবিজ্ঞান ইউনিটে আবেদনের জন্য জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে প্রতিটি পরীক্ষায় জিপিএ ৩ থাকতে হবে। এ ইউনিটে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে ৩.৫ থাকতে হবে। ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ৩ থাকতে হবে।
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে আবেদনের জন্য নিজ শাখার শিক্ষার্থীদের জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ৩ থাকতে হবে। বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে ৩.৫ থাকতে হবে। মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ৩ থাকতে হবে।
চারুকলা ইউনিটে আবেদনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে প্রতিটি পরীক্ষায় জিপিএ ৩ থাকতে হবে।
পরীক্ষার নম্বর ও মূল্যায়ন
চারুকলা ও আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্য তিনটি ইউনিটে ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। চারুকলা ইউনিটে ৪০ নম্বরের এমসিকিউ ও ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা নেওয়া হবে। আইবিএ ইউনিটে থাকবে ৭০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা।
চারুকলা ইউনিটে এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। আইবিএ ইউনিটে এমসিকিউ পরীক্ষার সময় ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট। অন্য তিনটি ইউনিটে এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট করে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার নম্বর ১০০ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের জন্য থাকবে ২০ নম্বর।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।



