রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার ইসিবি চত্বরে অবস্থিত ‘নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে’ আবারও দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল চারটার দিকে হামলার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফ গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ইসিবি চত্বর এলাকার ওই প্রকল্পে একজনকে আটকে রাখার তথ্য দেওয়া হয়। খবর পাওয়া মাত্রই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, তার প্রকল্পে দুর্বৃত্তরা আবারও অনাধিকার প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি তদারকি করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতেও নিউগিনি প্রপার্টিজের ওই আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভয়াবহ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালমান মুক্তাদিরের পোস্ট করা ভিডিওর মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
বিগত হামলার ঘটনায় জড়িত মূল সমন্বয়ক মো. যুবরাজকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরভিত্তিক দুটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের একত্র করে হামলার সমন্বয় করেছিলেন ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার’ ইব্রাহিমের অনুসারী যুবরাজ।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ২৬ সেপ্টেম্বরের হামলার পূর্বে ইসিবি চত্বরের একটি রেস্তোরাঁয় বসে ১৩ জন মিলে এই আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। সেখানে মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার জন্য এক কোটি টাকার চুক্তি চূড়ান্ত করেন। পরবর্তীতে ইব্রাহিম সন্ত্রাসী বাহিনী সংগ্রহ করে হামলার চূড়ান্ত দায়িত্ব দেন যুবরাজকে।
পূর্বের ওই হামলায় সম্পৃক্ততা ও সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের মধ্যে ৮ জনই ইতোমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় সরাসরি জড়িত আরও ৯ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



